অধ্যায়ঃ ২ – কৃষি প্রযুক্তি

JSC / কৃষি শিক্ষা

অধ্যায়ঃ ২ – কৃষি প্রযুক্তি

প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ব্যবহার একটি চলমান প্রক্রিয়া। একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন হওয়ার পর ব্যবহার কিছুদিন চলে। পরে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়। এরূপ সবসময়ই নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন পুরাতন প্রযুক্তির স্থান দখল করে নেয়। 

এই অধ্যায় শেষে আমরা –

  • কৃষিতে বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাখ্যা করতে পারব। 
  • মাঠ ফসলের বহুমুখীকরণ ব্যাখ্যা করতে পারব। 
  • শস্য পর্যায় ব্যাখ্যা করতে পারব।

পাঠ -১: ধান চাষে গুটি ইউরিয়ার ব্যবহার 

গুটি ইউরিয়ার পরিচয় : ধান চাষে যেসব সার ব্যবহার করা হয় নাইট্রোজেন সম্বলিত ইউরিয়া তার মধ্যে  প্রধান। দানাদার ইউরিয়া সারের সাশ্রয়ী ব্যবহারের জন্য মেশিনের সাহায্যে এটাকে গুটি ইউরিয়ায় রুপান্তর করা হয়।

গুটি ইউরিয়ার প্রয়োজনীয়তা 

গতানুগতিক দানাদার ইউরিয়া ব্যবহারের অসুবিধা থাকায় গুটি ইউরিয়া ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তাই প্রথমেই দানাদার ইউরিয়ার সুবিধা অসুবিধা আলোচনা করা হলো।

দানাদার ইউরিয়া ব্যবহারের সুবিধা

  • এটি প্রয়োগ করা খুব সহজ।
  • প্রয়োগে সময় ও শ্রম কম লাগে।
  • গাছের মুল বা শিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। 
  • বাজারে সহজলভ্য। 

দানাদার ইউরিয়া ব্যবহারের অসুবিধা 

  • দানাদার ইউরিয়া কিস্তিতে কয়েকবার প্রয়োগ করতে হয়।
  • এই সার পানিতে মিশে দ্রুত গলে এবং চুইয়ে মাটির নিচে গাছের শিকড় অঞ্চলের বাইরে চলে যায়। 
  • বৃষ্টি বা সেচের পানির সাথে এই সার সহজেই ক্ষেত থেকে বের হয়ে যায়। 
  • এই সার ব্যবহারে অপচয় এবং খরচ বেশি।

গুটি সার ব্যবহারের সুবিধা 

  • গুটি ইউরিয়া ফসলের এক মৌসুমে একবার ব্যবহার করা হয়। 
  • গুটি ইউরিয়ার ব্যবহারের ২০-৩০ ভাগ নাইট্রোজেন সাশ্রয় হয়। 
  • গুটি ইউরিয়া ধীরে ধীরে গাছকে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে। 
  • গুটি ইউরিয়া ব্যবহারের ফলে ফলন ১৫-২০ ভাগ বৃদ্ধি পায়। 

গুটি ইউরিয়া ব্যবহারের অসুবিধা 

  • গাছের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • চাহিদা অনুযায়ী গুটির আকার পাওয়া দুষ্কর। 
  • শুকনো মাটিতে প্রয়োগ করা যায় না। 
  • প্রয়োগে বেশি সময় ও শ্রম লাগে। 

ধান চাষে গুটি ইউরিয়ার প্রয়োগ পদ্ধতি

গুটি ইউরিয়া ব্যবহার এর প্রয়োগ পদ্ধতি ধাপ আকারে দেওয়া হলো 

ধাপ-১ : ব্যবহারের ৫-৭ দিন পূর্বে ২০×২০ সে.মি লাইন থেকে লাইন এবং চারা থেকে চারার দূরত্বে ধানের চারা রোপন করতে হবে। জমিতে ২-৩ সে.মি পরিমাণ পানি থাকে সে সময় গুটি ইউরিয়া ব্যবহার সহজ হবে। 

ধাপ-২: গুটি ইউরিয়ার ওজন বিভিন্ন রকম হয়। যেমন ০.৯ গ্রাম, ১.৮ গ্রাম, ২.৭ গ্রাম। ওজন অনুযায়ী ধান ক্ষেতে ব্যবহারের মাত্রা ঠিক করতে হবে।

ধাপ-৩: গুটি ইউরিয়া লাইনে চাষ করা ক্ষেতে প্রয়োগ সহজ  প্রথম লাইনের চার গোছার মাঝে ১০ সে.মি.  গভীরে গুটি পুতেঁ দিতে হবে। এরপর চার গোছা বাদ দিয়ে পরবর্তী চার গোছার মাঝে একই গভীরতায় পুঁতে দিতে হবে।

পাঠ : গরু মোটাতাজাকরণ

মোটাতাজাকরণ পদ্ধতির উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো :

) গরু নির্বাচন ক্রয় করা : বলদ গরু মোটাতাজাকরন জন্য ভালো এ জন্যে দেড়-দুই বছর বয়সের এঁড়ে বাছুর ক্রয় করা উত্তম। 

) বাসস্থান নির্মাণ : প্রতিটি গরুর জন্য ১.৫মি.×২মি. জায়গায় ঘর  নির্মাণ করতে হবে।

) রোগ ব্যাধির চিকিৎসা : এ ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। সংক্রামক রোগের টিকা দেওয়া জরুরী।

) খাদ্য সরবরাহ : পশুকে এমন খাদ্য দিতে হবে যাতে আমিষ ,শর্করা, চর্বি, খনিজ পদার্থ ও ভিটামিনের পরিমাণ খাদ্যে বেশি থাকে।

মোটাতাজাকরণের খাদ্য তৈরি প্রক্রিয়া :

পশু মোটাতাজাকরণ অর্থ হচ্ছে পরিমিত খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে গরুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং মানুষের জন্য আমিষ সরবরাহের ব্যবস্থা করা। খাদ্য থেকে পশু পুষ্টি পায় এবং শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে। এমন খাদ্য দিতে হবে যাতে পশুর পুষ্টি বেশি হবে। 

ইউরিয়া ও ঝোলাগুড় মেশানো খাদ্য পশু মোটাতাজাকরণের সহায়ক। এগুলো দুইভাগে মিশিয়ে খাওয়ানো যায় (১) খড়ের সাথে মিশিয়ে এবং (২) দানাদার খাদ্যের সাথে মিশিয়ে। 

খড়ের সাথে ইউরিয়া মিশিয়ে গো-খাদ্য তৈরি 

  • প্রথমে একটি ডোল নিয়ে এর চারপাশ কাদা মিশিয়ে লেপে শুকিয়ে নিতে হবে। 
  • এরপর একটি বালতিতে ২০ লিটার পানি নিতে হবে। 
  • পানিতে ১ কেজি ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করতে হবে।
  • ২০ কেজি খড় ডোলের মধ্যে অল্প অল্প করে দিয়ে ইউরিয়া দ্রবণ খড়ের উপর ছিটিয়ে চেপে চেপে ধরতে হবে। 
  • এভাবে সম্পূর্ণ ডোল খড় দিয়ে ভরতে হবে।
  • ডোলে খড় ভরা সম্পূর্ণ হলে এর মুখ ছালা বা পলিথিন দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। 
  • ১০-১২ দিন পর খড় বের করে শুকাতে হবে। 
  • সাধারণ একটি গরুকে প্রতিদিন ৩কেজি ইউরিয়া মেশানো খড় খাওয়াতে হবে।
  • খড়ের সাথে দৈনিক ৩০০-৪০০ গ্রাম ঝোলাগুড় মিশিয়ে দিতে হবে।

পাঠ : ফসলের রোগ তার প্রতিকার 

ফসলের রোগের ধারণা 

জীবজন্তুর মতো ফসলেরও রোগ হয়। এই রোগের সুচিকিৎসা না হলে ফসল মরে যায়। আমরা যদি ফসলের মাঠে যাই তখন অনেক রোগের লক্ষণ দেখতে পারবো। 

ফসলের পাতায় বা কান্ডে নানা প্রকার দাগ 

পাতার ঘরের মেঝের মোজাইক মতো হলুদ-সবুজ মেশানো ছোপ ছোপ রং।

কোনো ফসলের শিকড় পচা। 

বীজতলায় অনেক ঢলে পড়া বা পচা চারা গাছ। 

এগুলো হচ্ছে গাছের রোগের লক্ষণ। এই লক্ষণ দেখেই কৃষকেরা সতর্ক হন এবং প্রতিরোধের ব্যবস্থা করেন। 

ভিন্ন ভিন্ন ফসলের ভিন্ন ভিন্ন রোগ হয়, ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। নিচে কতগুলো রোগাক্রান্ত ফসলের লক্ষণ উল্লেখ করা হলো :

) দাগ : ফসলের পাতায়, কান্ডে বা ফলের গায়ে নানা ধরনের দাগ বা স্পষ্ট দেখা। যেমন – ধান গাছের বাদামি দাগ একটি ছত্রাকজনিত রোগপর লক্ষণ।

) ধ্বসা রোগ : পাতা ঝলসে যায়৷ যেমন – আলুর ধ্বসা রোগ।

) মোজাইক : ফসলের পাতায় গাঢ় ও হালকা হলদে-সবুজ এর ছোপ ছোপ রং দেখা যায় এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ৷ 

) ঢলে পড়া : অনেক সময় ফসলের কান্ড ও শিকড় রোগে আক্রান্ত হলে ফসলের শাখাগুলো মাটির দিকে ঝুলে পড়ে।  যেমন – বেগুনের ঢলে পড়া। 

) পাতা কুঁকুড়িয়ে যাওয়া : ভাইরাসজনিত কারণে ফসলের পাতা কুঁকড়িয়ে যায়। যেমন – পেঁপে, টমেটোর ফসলে দেখা যায়।

প্রতিকার : রোগাক্রান্ত হওয়ার আগেই প্রতিকার নিলে ক্ষয়ক্ষতির আশংকা কম থাকে।

) জীবাণুমুক্ত বীজ ব্যবহার করা : বীজের মাধ্যমে অনেক রোগ ছড়ায় তাই এই দিকে নজর রাখতে হবে। 

) বীজ শোধন : অনেক নিজেই রোগ বহন করে।  তাই বীজবাহিত রোগ জীবাণু নীরোগ করার জন্য বীজ শোধন কার্যকর পদ্ধতি। এজন্য ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা হয়। 

) পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন ফসল আবাদ করা : ফসলের ক্ষেত্রে আগাছা থাকলে ফসল রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। তাই আগাছা পরিষ্কার করে চাষাবাদ করতে হবে।

) রোগাক্রান্ত গাছ পুড়িয়ে ফেলা বা মাটিতে পুঁতে ফেলা : এক গাছ থেকে যাতে রোগ না ছড়ায় তাই রোগাক্রান্ত গাছটি তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।  নতুবা মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। 

পাঠ : মৃত পশুপাখি মাছের ব্যবস্থাপনা 

. মৃত পশুর সৎকার 

. মৃত পাখির সৎকার 

. মৃত মাছের সৎকার 

. মৃত পশুর সৎকার : পরিবেশের সৌন্দর্যের ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে মৃত পশুকে যেখানে সেখানে ফেলে রাখা যাবে না। তাই মৃত পশুর সৎকারের ব্যবস্থা করতে হবে অতি দ্রুত। মৃত পশুকে খামার বা বসতবাড় হতে দূরে সৎকার করতে হবে। উঁচু স্থানে মাটির ১:২২ মিটার (৪ফুট) গভীরে গী্ত করে চাপা দিতে হবে।

এরওর গর্তের উপরের স্তরে চুন বা ডিডিটি ছড়িয়ে দিতে হবে।

. মৃত পাখির সৎকার : পশুর মতোই খামার বা বসতবাড়ি থেকে দূরে মাটিতে গর্ত করে পুতেঁ ফেলতে হবে। খামারে মহামারী আকারে অনেক পাখির মৃত্যু হলে বড় গর্ত করে মাটি চাপা দিয়ে ডিডিটি ছিটাতে হবে। 

. মৃত মাছের সৎকার

জাল দিয়ে মাছগুলো সংগ্রহ করতে হবে। 

পুকুর থেকে অনেক দূরে যেখানে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পুকুরে প্রবেশ করতে পারেনা সেখানে তিন ফুট গভীর গর্ত করতে হবে।

মাছের সংখ্যা অনুযায়ী গর্ত করতে হবে।

গর্তে মাছ নিক্ষেপ করে এরপর ব্লিচিং পাউডার দিতে হবে।

অতঃপর মাটি চাপা দিতে হবে।

পাঠ : মাঠ ফসলের বহুমুখীকরণ 

মাঠ ফসলের বহুমুখীকরণ বলতে কোনো একক ফসল বা একক প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল না হয়ে ফসল বিন্যাস, মিশ্র ও সাথি ফসলের চাষ ও খামার যান্ত্রিকীকরণকে বোঝায়।

শস্য বহুমুখীকরণ এর উদ্দেশ্য হচ্ছে –

কাঙ্খিত ফসল বিন্যাস, শস্যের আবাদ বাড়ানো এবং কৃষকের আয় ও জীবনযাত্রার মানে উন্নয়ন। 

খামারের কর্মকাণ্ড সমন্বয় 

প্রচলিত শস্যবিন্যাসে উন্নত ফসলের জাত ও কলাকৌশলের সংযোগ ঘটানো।

প্রযুক্তি গ্রহনে কৃষকদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা ও সমাধান করা। 

) ফসলবিন্যাস : বাংলাদেশের ভূমি নানা জাতের ফসল চাষপর উপযেগী। ফসলবিন্যাস করা হয় মাটির গুণাগুণ, পানির প্রাপ্যতা, চাষ পদ্ধতি, শস্যের জাত, ঝুঁকি, আয়, এসব বিষয় মাথায় রেখে। 

) মিশ্র সাথি ফসলের চাষ : মিশ্র ও সাথি ফসলের চাষ বলতে একাধিক ফসল যা ভিন্ন সময়ে পাকে, ক্রমবৃদ্ধির ধরন ভিন্ন এবং মাটির বিভিন্ন স্তর থেকে খাদ্য আহরণ করে এরূপ ফসলের একত্রে চাষকে বোঝায়। 

)শূন্য চাষ পদ্ধতি : শূন্য চাষ অর্থ  হচ্ছে বিনা চাষে ফসল ফলানো। বন্যাকবলিত এলাকায় ধানভিত্তিক ফসল বিন্যাসে শূন্য চাষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় । 

) রিলে চাষ : আমাদের দেশে সাধারণত রিলে চাষই হয়৷  এটি দ্বারা মাটির গঠন উন্নত হয় উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।

) সম্পদের সুষ্ঠু সদ্ব্যবহার : মাঠ ফসল বহুমুখীকরণ এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো,অধিক উৎপাদন ও অধিক আয়৷ কৃষকের আয় নির্ভর করে সম্পদের সঠিক ব্যবহারের উপর। তাই ফসল চাষের ক্ষেত্রে সম্পদের সুষ্ঠু সদ্ব্যবহার করার মাধ্যমেই সঠিক মুনাফা অর্জন সম্ভব৷ 

পাঠ : মাঠ ফসলের বহুমুখীকরণের ব্যবহার 

বাংলাদেশের জলবায়ু অনুযায়ী তিনটি মৌসুমে নানাবিধ ফসল উৎপাদন করা যায়।

নিচে মাঠ ফসলের বহুমুখীকরণের ব্যবহার হিসেবে ৩টি নমুনা উল্লেখ করা হলো :

১) আলুর সাথে রিলে হিসেবে পটলের চাষ।

২) আলুর সাথে রিলে হিসাবে করলার চাষ। 

৩) মিশ্র ফসল হিসাবে আলু ও লাল শাকের চাষ। 

উপরে উল্লিখিত শস্যবহুমুখীকরণ পদ্ধতি ছাড়াও সাথি ফসল হিসাবে –

১) আখের সাথে টমেটোর চাষ হয়  

২) আখের সাথে সরিষা চাষ হয় 

৩) আখের সাথে মসুরের চাষ হয় 

মিশ্র ফসল হিসেবে-

১) মসুরের সাথে সরিষা চাষ হয়

২) আউশের সাথে তিলের চাষ হয় 

৩) কলা বাগানে আউশের চাষ হয় 

পাঠ: শস্য পর্যায়ের ধারণা 

শস্য পর্যায় একটি উন্নত কৃষি প্রযুক্তি। এর দ্বারা মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে,ঔসল ভালো হয়, অধিক ফলন হয়৷ রোগ-পোকা কম হয় এবং সারের কার্যকারিতা ভালো হয়। 

শস্য পর্যায়ের জন্য এমন ফসল নির্বাচন করতে হবে যাতে নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় –

  • পর পর একই ফসল চাষ না করা  
  • একই শিকড় বিশিষ্ট ফসল চাষ না করা 
  • ফসলের পুষ্টির চাহিদার কমবেশি অনুযায়ী ফসল নির্বাচন করা
  • ফসলের তালিকায় ডাল ফসল অন্তর্ভুক্ত করা 
  • সবুজ সার যেমন ধইঞ্চা চাষ করা 
  • গবাদি পশুর খাবারের জন্য ঘাসের চাষ করা 
  • খাদ্যশস্য ও অর্থকরী ফসলের চাষ

শস্য পর্যায় প্রযুক্তির সুবিধা 

  • শস্য পর্যায়ের প্রযুক্তি ব্যবহারে মাটির উর্বরতা সংরক্ষিত হয় 
  • মাটির পুষ্টির সমতা বজায় থাকে 
  • আগাছার উপদ্রব কমে
  • রোগ ও পোকার উপদ্রব কম হয়
  • পানির অপচয় কম হয়
  • ফসলের ফলন বাড়ে৷ 

শস্য পর্যায়ের ফলাফল 

  • উচ্চ মাত্রায় শস্য বহুমুখীকরণ প্রযুক্তি গ্রহন করা হয় 
  • পোকামাকড়, রোগবালাই ও আগাছার আক্রমণ কমে
  • বিভিন্ন জাতের ঔসল উৎপাদন হয় 
  • গাছ পরিমিত পুষ্টি পায় 
  • মাটিতে নাইট্রোজেন যুক্ত হয়  
  • কীটনাশক ব্যবহার কমে

পাঠ: শস্য পর্যায়ের ব্যবহার 

পূর্ববর্তী পাঠগুলোতে আমরা শস্য পর্যায়ের ধারণা পেয়েছি। কিন্তু আমাদের কৃষকেরা না জেনেই শস্য পর্যায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছেন। বৈজ্ঞানিক যুক্তি দিতে না পারলেও তারা একই পদ্ধতি ব্যবহার করে যুগের পর যুগ চাষাবাদ করে আসছেন। 

পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার প্রায় সব এলাকা এবং দিনাজপুরের উত্তর-পশ্চিম অংশ কৃষি পরিবেশ – ১ এর অন্তর্ভুক্ত। এখানে উঁচু, মাঝারি উঁচু, মাঝারি নিচু জায়গা আছে। এখানকার কৃষক তাই গম পাট, অথবা বোনা আউশ, কাউন, রোপা, আমন, আলু, শাকসবজি, মুগডাল, আখ,মরিচ, বোরো,ভুট্টা ইত্যাদি চাষ করে৷ এখানকার কৃষক কি শস্য পর্যায় ব্যবহার করেন তা দেখলে আমরা কৃষকের শস্য পর্যায় ব্যবহারের একটি বাস্তব চিত্র পাব 

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *