অধ্যায়ঃ ৫ – কৃষিজ উৎপাদন

JSC / কৃষি শিক্ষা

অধ্যায়ঃ ৫ – কৃষিজ উৎপাদন

কৃষিজ উৎপাদন এর মধ্যে গম চাষ, মাশরুম চাষ এবং কৃষিজাত দ্রব্য নিয়েই এই সমগ্র অধ্যায়ের আলোচনা। এছাড়াও রয়েছে গৃহপালিত পশুর মধ্যে রোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা। 

অধ্যায় শেষে আমরা – 

  • শস্য চাষ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে পারব
  • মাশরুম চাষের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • মিশ্র মাছ চাষ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে পারব
  • চিংড়ী মাছ চাষ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে পারব 
  • গৃহপালিত পশুপালন পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে পারব 
  • গৃহপালিত পশুর রোগ প্রতিরোধের উপায় ও রোগ ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষণ করতে পারব
  • কৃষিজাত দ্রব্য সংগ্রহ ও বাছাইকরণ কাজ বর্ণনা করতে পারব 

পাঠ-১ : গম চাষ পদ্ধতি 

বাংলাদেশে ধানের পরই খাদ্যশস্য হিসেবে গমের অবস্থান। এসব দানা জাতীয় ফসলই শর্করার প্রধান উৎস  তাইতো পৃথিবীর প্রতিটি দেশে খাদ্য শস্য হিসেবে দানা ফসল চাষ হয়। বাংলাদেশে দ্বিতীয় হলেও বিশ্বের অনেক দেশে গম প্রধান খাদ্যশস্য। 

দেশপর প্রায় সব জেলাতে গম চাষ হলেও দিনাজপুর, রংপুর,  ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী,  পাবনা,  বগুড়া, জামালপুর , যশোর, কুষ্টিয়া জেলায় বেশি চাষ হয় । নানা জাতের উচ্চ ফলনশীল গম বাংলাদেশে রয়েছে। 

বপন সময় : গম শীতকালীন ফসল। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত গম বপনের উপযুক্ত সময়  উঁচু ও মাঝারি দোআঁশ মাটিতে গম ভালো হয় ।

বীজের হার :  এক হেক্টর জমিতে ১২০ কেজি গম বীজ বপন করতে হয়। বীজ গজানোর হার শতকরা ৮৫ ভাগের বেশি হলে ভালো। প্রতি কেজি বীজ ৩ গ্রাম প্রভেক্স ২০০ এর সাথে ভালো করে মিশিয়ে বীজ শুধু করতে । 

পানি সেচ : মাটির প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে গম চাষে ২-৩টি সেচের প্রয়োজন  

আগাছা দমন : গম চাষে সার,  সেচ এসবে ভাগ নেয় আগাছা। তাই ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগের পূর্বে নিড়ানি দিতে হবে। ক্ষেত আগাছামুক্ত রাখতে কমপক্ষে দুইবার নিড়ানি দিতে হবে। 

ফসল সংগ্রহ: অতিরিক্ত পাকলে গম হলদে হয়ে মরে যায়। তাই সঠিক সময়ে গমকে কেটে ভালোভাবে শুকিয়ে মাড়াই যন্ত্র দিয়ে মাড়াই করতে হবে৷ 

পাঠ : গম চাষে অন্যান্য প্রযুক্তি পরিচর্যা 

বিনা চাষে গমের আবাদ 

প্রায় সময় আমন ধান কাটতে দেরি হয়। ফলে জমি চাষমই দিয়ে বীজ বোনার সময় থাকেনা৷ এক্ষেত্রে বিনা চাষে গম আবাদ জরা যায়। ধান কাটার পর জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকলে সরাসরি বীজ বুনতে হয়৷ 

এভাবে গম চাষ করলে দুইভাবে সার দেয়া যায়। ১) বীজ বোনার সময় সব সার ছিটানো 

২) বীজ বপনের ১৭-২০ দিনের মধ্যে প্রথম হালকা সেচ দেয়ার সময় সব ছিটানো। 

স্বল্প চাষে আবাদ 

দেশি লাঙল দিয়ে দুইটি চাষ দিয়ে  গম বীজ বপন করা যায়। ধান কাটার ওর জমিতে জো আসার সাথে সাথে গম বীজ বপন করতে হবে। বপনের ১৭-২১ দিনের মধ্যে হালকাভাবে প্রথম সেচ দিতে হবে।

বপনের ২৫-৩০ দিনের মধ্যে আগাছা  দমন করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

 গম চাষে রোগ দমন 

সাধারণত তেমন পোকামাকড় না হলেও গম চাষে ছত্রাকজনিত বপশ কিছু রোগ দেখা যায়।তাছাড়াও ইঁদুরের উপদ্রব থাকে৷ অনেকগুলো রোগের মধ্যে অন্যতম রোগগুলি হলো –

  • পাতার মরিচা রোগ : এই রোগে পাতার উপর ছোটো গোলাকার হলুদাভ দাগ পড়ে৷শেষ পর্যন্ত এ রোগে মরিচার মতো বাদামী বা কালচে রঙে পরিণত হয়৷ 

এছাড়াও রয়েছে পাতার দাগ রোগ, গোড়া পচা রোগ, আলগা ঝুল রোগ এবং বীজের কালো দাগ রোগ৷ 

গমের প্রধান শত্রু হলো ইঁদুর। বিভিন্ন ধরনের টোপের মাধ্যমে এই ইঁদুর দমন করা হয়। 

পাঠ : মাশরুম চাষের প্রয়োজনীয়তা 

মাশরুম এক ধরনের ছত্রাক হলেও এটি খাদ্যপযোগী,পুষ্টিকর, সুস্বাদু, ও ঔষধি গুণ সম্পন্ন। প্রকৃতপক্ষে মাশরুম এক ধরনের মৃতজীবী ছত্রাকের ফলন্ত অঙ্গ যা ভক্ষণযোগ্য।

  • মাশরুম নিজে সুস্বাদু খাবার এবং অন্য খাবারে যোগ করলে স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। 
  • পুষ্টিমান হিসেবে মাশরুম সবার সেরা ফসল। 
  • এর ভিটামিন ও মিনারেল দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। 
  • অত্যন্ত অল্প সময়ে অর্থাৎ ৭-১০ দিনের মধ্যে ফলানো যায়।
  • মাশরুম চাষ ব্যাবসায়িক দিক থেকে খুবই লাভজনক৷ 

পাঠ-৪ : মাশরুম চাষ পদ্ধতি 

 বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে চাষ করা যায় মিল্কি, ঋষি ও স্ট্র মাশরুম এবং শীতকালে শীতাকে, বাটন, শিমাজি ও ইনোকি মাশরুম৷ 

মাশরুমের বীজ বা স্পন তৈরি :

মাশরুমের বীজ ল্যাবরেটরিতে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে তৈরী করা হয়৷ 

প্যাকেটজাত বীজকে বাণিজ্যিক স্পন বলে। আবার খড় দিয়ে নিজেরাও স্পন তৈরি করে নেওয়া যায়৷ 

চাষঘর তৈরি : মাশরুম চাষপর ঘরটায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন প্রবেশের জানালা রাখতে হবে৷ আবছা আলে রাখতে হবে৷ তাপমাত্রা ২০-৩০° হতে হবে৷ মাশরুম আর্দ্রতা পছন্দ করে৷ 

স্পন সংগ্রহ : চাষঘর তৈরির পর বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে পলি প্যাকেটে তৈরি স্পন সংগ্রহ করতে হবে স্পন সংগ্রহের পর তাড়াতাড়ি প্যাকেট কাটার ব্যবস্থা করা লাগবে। 

প্যাকেট কর্তন : চাষঘরে বসানোর আগে স্পন প্যাকেট সঠিক নিয়মে কেটে পানিতে চুবিয়ে নিতে হবে। 

পরিচর্যা: চাষঘরের মেঝে বা তাকে ২’’ পর পর স্পন সাজাতে হবে। আর্দ্রতা ৭০-৮০% রাখার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পানি স্প্রে করবো৷ 

অন্যান্য পরিচর্যা : পরিচর্যা ঠিকমতো হলে ২-৩ দিনের মধ্যে মাশরুমের অঙ্কুর পিনের মতো বের হবে। 

প্রতি পার্শ্বে ৮-১২ টি বড় অঙ্কুর রেখে বাকিগুলি ছেটে ফেলতে হবে৷ এভাবে পরিচর্যার মাধ্যমে এক প্যাকেট থেকে ২০০-২৫০ গ্রাম মাশরুম পাওয়া যাবে। 

মাশরুম সংগ্রহ সংরক্ষণ

মাশরুম যথেষ্ট বড় হয়েছে কিন্তু শিরা ঢিলা হয় নি এমতাবস্থায় হাত দিয়ে টেনে তুলতে হবে৷ এগুলো ঠান্ডা জায়গায় ২-৩ ও ফ্রিজে ৭-৮ দিন ভালো থাকে৷ 

পাঠ : উদ্যান ফসল সংগ্রহ বাছাই 

ফল, শাকসবজি ও ফুল দ্রুত পচনশীল। দেশীয় পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও বাজারজাত করণে এসব পণ্যের ৫০% নস্ট হয়ে যায়। কিন্তু তোলা থেকে বাজারজাত করা পর্যন্ত একটু সমন্বিত ব্যবস্থা নিলে পণ্যের গুণগতমান পুরোপুরি বজায় থাকে। 

বিভিন্ন উদ্যান ফসলের ফল,পাতা, কুড়ি, অঙ্কুর, মুল, কান্ড, কলি ও ফুল ইত্যাদি অংশ আমরা ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করি। ফসল সংগ্রহের জন্য আমাদের বাণিজ্যিক পরিপক্বতাকে বিবেচনা করতে হয়। ভালো বাজারমূল্য পাওয়ার জন্য উদ্যান ফসল যথাযথ ভাবে সংগ্রহ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, ছাটাই, বাছাই, প্যাকিং ও পরিবহন করা প্রয়োজন। 

পণ্যের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রোধ করতে আমাদের –

  • ফসল তোলার সময় : ফসল তোলার জন্য বাণিজ্যিক পরিপক্বতা বিবেচনা করে সঠিক সময়ে ফসল তুলতে হবে৷ 
  • ফসল তোলার পদ্ধতি : ফসল সাধারণত দুই ভাবে তোলা হয়, ১) হাত দিয়ে ২) যন্ত্রের সাহায্যে 

এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে৷ 

  • ফসল রাখার পাত্র : ক্ষেত থেকে ফসল তোলার সময় ফসল রাখার পাত্রের প্রতি নজর দিতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে৷ 
  • মাঠ থেকে পরিবহন : মাঠ থেকে বাছাইয়ের স্থানে নেয়ার সময় সাবধান থাকতে হবে। 
  • তাপমাত্রা : ক্ষেত থেকে তোলার পর পণ্যকে সূর্যের তাপ হতে রক্ষা করতে হবে। তাড়াতাড়ি মাঠ থেকে সরিয়ে নিতে হবে। 
  • পণ্য বাছাই : পণ্য মাঠ থেকে আনার পর প্রথম অপ্রয়োজনীয় বা অগ্রহণযোগ্য পণ্য বেছে ফেলতে হবে। অতঃপর বাজারজাত করার জন্য প্যাকিং করতে হবে৷ 

পাঠ মাঠ ফসল সংগ্রহ বাছাই 

. সঠিক সময়ে ফসল কাটা : বীজ ভালোভাবে পাকার পরই ফসল সংগ্রহ করতে হবে  অর্থাৎ ফসল পাকার পর কাটতে হবে। কিন্তু কাটার সময় আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা লাগবে। 

.মাড়াইকরণ :  কেটে ফেলা ফসল ভালোভাবে শুকিয়ে নিলে দ্রুত মাড়াই করা যায়৷ মাড়াইয়ের সময় দানা নস্ট হয় না। ফসলের পরিমাণ বেশি হলে গরু দিয়ে মাড়াই করা হয়। নাহয় লাঠি দিয়ে পিটিয়েও মাড়াই করা যায়৷ 

. ঝাড়াই : মাড়াইকৃত ফসল ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিতে হয়৷ তারপর কুলা, বাতাস, বা শক্তিচালিত ফ্যানের সাহায্যে আবর্জনা বাছাই হয়ে যায়৷ 

.ফসল শুকানো : মাড়াই ঝাড়াই করার পর দানা ভালোভাবে শুকাতে হবে। 

. পরিবহন : শুকানোর পর দানা গরম অবস্থায় বস্তাবন্দি করা ঠিক নয়৷ একটু ঠান্ডা হওয়ার পর প্লাস্টিক বা চটের বস্তায় ভর্তি করে গুদাম বা গেলায় নিয়ে যেতে হবে। 

৬. গুদামজাতকরণ : যে ঘরে বা কক্ষে সংগৃহীত ফসল রাখা হয় তাকে গুদামঘর বলে৷ গুদামঘরের মেঝের একটু উপরে বাঁশ বা কাঠের পাটাতন করে তার উপর ফসল রাখা হয়৷ গুদামঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এতে  করে পোকামাকড় ও ইদূরের আক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যায়।  দানা রাখার সময় ভাঁজে ভাঁজে শুকানো নিমপাতা দিলে পোকার আক্রমণ হয় না।। 

পাঠ : মাছের মিশ্র চাষের সুবিধা 

  • এরা জলাশয়ের বিভাগে স্তরের খাবার খায়। যেমন – কাতলা পুকুরের উপরের স্তরের,রুই মধ্য স্তরে ও মৃগেল নিচের স্তরের খাবার খায়  
  • এরা রাক্ষুসে স্বভাবের না
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো
  • দ্রুত বর্ধনশীল 
  • চাষের জন্য সহজেই হ্যাচারিতে পোনা পাওয়া যায়
  • স্বল্প মূল্যের সম্পূরক খাবার খেয়ে বেড়ে উঠে 
  • খেতে সুস্বাদু ও বাজারে চাহিদা আছে৷

মিশ্র চাষের সুবিধা 

  • মাছ পুকুরের বিভিন্ন স্তরে থাকে ও খাবার খায় বলে পুকুরের সকল জায়গায় খাবারের সদ্ব্যবহার হয় 
  • কোনো স্তরে খাবার জমে নস্ট হয় না 
  • মিশ্র চাষে রোগবালাই কম হয় 
  • সর্বোপরি উৎপাদন বেশি 

পাঠ: মিশ্র চাষের জন্য আদর্শ পুকুর 

মিশ্র চাষের লাভজনক। এইরকম চাষের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে –

  • পুকুরটি বন্যামুক্ত হতে হবে। 
  • পুকুরের পানির গড় গভীরতা ২-৩ মিটার হবে এবং শুকনোর সময় পানির গভীরতা হবে কমপক্ষে ১ মিটার৷ 
  • দোআঁশ, এটেল দোআঁশ বা এঁটেল মাটির পুকুর সবচেয়ে ভালো। কারন এই মাটির ধারণক্ষমতা ভালো। 
  • পুর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম পাড়ে বড় গাছ থাকবেনা 
  • পুকুরটি খোলামেলা হবে যেন প্রচুর আলো বাতাস পায়৷ 
  • আয়তন ৩০-৫০ শতক হলে ভালো 
  • রাক্ষুসে মাছ বা পোকামাকড় থাকবেনা 
  • পুকুরে আগাছা থাকবেনা 
  • পুকুরের তলায় বেশি কাঁদা থাকবেনা। 

মৎসের জীবনধারণের মাধ্যম হচ্ছে পানি৷ পুকুরের গুণাগুণ মাছ চাষে সরাসরি প্রভাব ফেলে৷ একটি উৎপাদনশীল পুকুরের পানির নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য থাকা লাগবে –

  • গভীরতা 
  • পানির ঘোলাত্ব 
  • পানির রং
  • তাপমাত্রা 
  • দ্রবীভূত গ্যাস 

পাঠ : মিশ্র চাষের জন্য পুকুর প্রস্তুতি 

ফসল ফলানোর জন্য জমির উর্বরতা, মান এইসব যেমন ভূমিকা রাখে, মৎস চাষের ক্ষেত্রেও পুকুর প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। অন্যথায় মাছের বৃদ্ধি হবেনা। 

১) পুকুরের পাড় ও তলদেশ মেরামত : পাড় ভাঙা থাকলে মেরামত করে দিতে হবে।। পাড় বড় গাছপালা ছেটে দিতে হবে। 

) আগাছা পরিষ্কার : পুকুরে জলজ আগাছা যেমন কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা ইত্যাদি পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।  

) রাক্ষুসে মাছ অপ্রয়োজনীয় মাছ অপসারণ : শোল, গজার, চিতল, বেয়াল এসব মাছের চাষের মাছ পোনা খেয়ে ফেলে। পুকুরে ১ ফুট বা ৩০ সে.মি. গভীরতার জন্য প্রতি শতকে ৩০-৩৫ গ্রাম মাছ মারার বিষ রোটেনিন পাউডার পানিতে গুলে সমস্ত মাছ পানির উপর ভেসে উঠলে তুলে ফেলতে হবে। রোটেনন ব্যবহার করা মৃত মাছ খাওয়া যাবে৷ 

) চুন প্রয়োগ : পুকুর শিকনা হলে প্রতি শতকে ১-২ কেজি চুন পাউডার করে তলায় ছিটিয়ে দিতে হবে৷ চুন মাটি ও পানি জীবাণু মুক্ত করে ও উর্বরতা বৃদ্ধি করে। পানির ঘোলাটে অবস্থা দুর করে ও তলদেশের বিষাক্ত গ্যাস দূর করে৷ 

) সার প্রয়োগ : প্রাকৃতিক খাদ্যের সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সার পুকুরে দেয়া হয় 

পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা

পুকুরে সার প্রয়োগের ৫-৭ দিন পর পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হয়েছে কিনা পরীক্ষা করতে হয়। 

পাঠ-১০: পোনা মজুদ এবং মজুদ পরবর্তী পরিচর্যা 

পোনা মজুদ : মৎস্য চাষের অন্যতম শর্ত হলো পোনা সংগ্রহ। আশেপাশের হ্যাচারি বা নার্সারি খামার থেকে পোনা সংগ্রহ করতে হবে৷পোনা এনে সরাসরি পুকুরে ছাড়া উচিত নয়। বরং পোনা ভর্তি পলিব্যাগ বা পাত্র পুকুরের পানিতে ১৫-২০ মিনিট ভাসিয়ে রাখা  এতে করে পানির তাপমাত্রা ও পুকুরের পানির তাপমাত্রা প্রায় সমান থাকে৷ 

সকালে বা বিকালে বা দিনের ঠান্ডা আবহাওয়ায় পুকুরে পোনা ছাড়তে হবে৷ 

মজুদ পরবর্তী পরিচর্যা :

) সার প্রয়োগ : পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য না পেলে মাছের বৃদ্ধি হবেনা। তাই নিয়মিত সময় করে পুকুরে নির্দিষ্ট পরিমাণে সার ছিটিয়ে দিতে হবে৷

২) সুষম খাদ্য সরবরাহ : মাছের সুষম খাবার তৈরির জন্য ফিশমিল, সরিষার খৈল, গমের তুসি, চালের কুড়া, আটা ও ভিটামিন যথাক্রমে ২০:৩০:৪৫:৪.৫:০৫ অনুপাতে মিশিয়ে খাবার তৈরি করে মাছকে খাওয়াতে হবে। 

খাবার দেওয়ায় ১০-১২ ঘন্টা আগে খৈল ভিজিয়ে রাখতে হবে  এছাড়াও কেনা খাদ্য সরবরাহ করা যায়। 

) মাছের রোগ ব্যবস্থাপণা : অন্যান্য জীবজন্তুর মতো মাছেরও রোগ বালাই হয়। জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে সহজেই মাছের মৃত্যু হতে পারে। মাছপর ক্ষত রোগ, লেজ ও পাখনা পচা রোগ, পেটফোলা রোগ, মাছের দেহে উকুনের আক্রমণ হতে পারে। 

মাছে রোগ হলে তার নানাবিধ অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, তাই রোগ হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগাক্রান্ত মাছ সরিয়ে নিতে হবে। 

মাছ আহরণ : রুই, কাতলা, মৃগেল মাছ ১ বছরে বয়স পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়৷ এজন্যই নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরে ফেলতে হবে।কারণ এরপর খাদ্য গ্রহণের মাত্রা বাড়লেও দৈহিক বৃদ্ধি তেমন হয় না। 

পাঠ ১১: চিংড়ি চাষের জন্য পুকুর নির্বাচন প্রস্তুতি 

বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো চিংড়ি। কেননা মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি আয়ের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ আসে হিমায়িত চিংড়ির থেকে  বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বেলায় পোশাক শিল্পের পরই চিংড়ীর অবস্থান। চিংড়ি শিল্পের কাঁচামাল, যেমন – চিংড়ির পোনা এ দেশের প্রাকৃতিক উৎস ও হ্যাচারি থেকে সহজেই পাওয়া যায়। তাই এ শিল্পে স্বল্প ব্যয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করা যায়৷ 

এদেশে মিঠা ও লোনা পানিতে প্রায় ৬৭ প্রজাতির চিংড়ি পাওয়া যায়।

গলদা চিংড়ির মাথা ও দেহ প্রায় সমান। পুরুষ গলদার ২য় জোড়া পা বেশ বড়। কিন্তু বাগদা চিংড়ি মাথা দেহের থেকে ছোট হয়।  

গলদা চাষের জন্য পুকুর নির্বাচন : ছোটো বড় সব পুকুরেই গলদা চিংড়ি চাষ করা যায়। তবে বড় পুকুর গলদা চিংড়ি চাষের জন্য সুবিধাজনক। 

  • পুকুরটি খোলামেলা হবে যেন পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পায়। 
  • পুকুরের মাটি এঁটেল, দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ হলে ভালো হয়।
  • পুকুরের পানির গভীরতা ১-১.২ মিটার হওয়া দরকার।
  • পুকুর পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা 
  • পুকুর বন্যামুক্ত হতে হবে  
  • পুকুরের পানি দূষণমুক্ত 

পুকুর প্রস্তুতি : মিঠা পানিতে চিংড়ি চাষের জন্য পুকুর প্রস্তুতিও প্রায় অনুরূপ। নিচে সংক্ষেপে চিংড়ি চাষের জন্য পুকুর প্রস্তুতির বিভিন্ন ধাপ উল্লেখ করা হলো –

  • ভাঙা পুকুরপাড় মেরামত করতে হবে ও তলদেশের অতিরিক্ত কাদা তুলে ফেলতে হবে 
  • রাক্ষুসে ও অচাযযোগ্য মাছ থাকলে পুকুর শুকিয়ে বা রোটেনন ব্যবহার করে তা অপসারণ করতে হবে।
  • পুকুরে ভাসমান ও অন্যান্য জলজ আগাছা দূর করতে হবে।
  • পুকুরে শতকে ১-২ কেজি চুন প্রয়োগ করতে হবে৷ 
  • চুন দেয়া ৭-১০ দিন পর পুকুরে সার প্রয়োগ করতে হবে  

পাঠ ১২: পোনা মজুদ মজুদপরবর্তী ব্যবস্থাপনা 

পোনা মজুদের একদিন আগে গলদা চিংড়ির জন্য আশ্রয়স্থল স্থাপন করতে হবে৷ সার দেয়ার ৩-৫ দিন পর পুকুরের পানির রঙ হালকা সবুজ হলে পোনা মজুদ করতে হবে৷ 

চিংড়ি নির্দিষ্ট সময় পর পর খোলস বদলায়৷ খোলস ছাড়ার মাধ্যমেই চিংড়ির বৃদ্ধি ঘটে। 

খোলস বদলানের সময় চিংড়ি দূর্বল থাকে তাই নিরাপদ আশ্রয় চায়।তাই নারিকেল, তাল,খেজুর, গাছের শুকানো পাতা,ডালপালা ও বাঁশের টুকরো পুকুরের তলদেশে স্থাপন করতে হয় যা চিংড়ির আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহারে করে। 

প্রাকৃতিক উৎস বা হ্যাচারী হতে সংগৃহীত ১০-১৫সে.মি. আকারের পোনা পানির সাথে খাপ খাইয়ে সাবধানে পুকুরে ছাড়তে হবে৷ 

পানির অবস্থা পর্যবেক্ষণ : পুকুরে পোনা মজুদের পর নিয়মিত পানির অবস্থা পর্যপেক্ষণ করতে হবে। ২-৩ মাস পর পুকুরের পানি বেশি সবুজ হলে বা চিংড়ির অস্বাভাবিক আচরণ দেখা গেলে পানি পরিবর্তনের ব্যবস্থা করতে হবে।

খাদ্য ব্যবস্থাপনা : চিংড়ির ভালো উৎপাদন পাওয়ার জন্য প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি সম্পূরক খাবার দেওয়া দরকার। সুষম সম্পূরক খাদ্য তৈরির জন্য চালের কুড়া ব গমের ভূসি, খৈল, ফিশমিল, শামুক বা ঝিনুকের খোলসের গুড়া,লবণ ও ভিটামিন মিশ্রণ একসাথে মিশিয়ে বল তৈরি করে পুকুরে দেওয়া যায়। বল আকারে তৈরি ভেজা খাদ্য পুকুরের নির্দিষ্ট স্থানে খাদ্যদানিতে করে দিতে হবে৷ 

রোগ প্রতিরোধ : সকল প্রাণীর মতো চিংড়ি চাষের সময় চিংড়ির বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। তাই সাবধানতার সাথে পোনা নির্বাচন ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে রোগ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। আর রোগ হলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। 

পাঠ ১৩: মাছ সংগ্রহ বাছাই 

মাছ অত্যন্ত পচনশীল পণ্য। এইজন্যই মাছ ধরার পর তার গুণগত মান ভালো রেখে ক্রেতার কাছে পৌছানোর জন্য সর্তকতার সাথে সংগ্রহ, বাছাই ও রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। 

মাছকে ব্লিচিং পাউডার যুক্ত পানি দিয়ে ধুয়ে নিলে ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সংক্রমণের আশংকা অনেক কমে যায়। পানিতে প্রতি লিটার প্রতি ২৫-৩০ মিলিগ্রাম ব্লিচিং পাউডার মেশাতে হবে। 

বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মাছকে প্রজাতি ও আকার অনুযায়ী আলাদা করা যায়। আবার মাছের গুণাগুণের উপর ভিত্তি করেও মাছকে বিভিন্ন মান বা গ্রেড করা যায়।

মাছ সংগ্রহ বা বাছাইয়ের পর বরফের সাহায্যে সংরক্ষণ করা হয়। 

আমাদের দেশে মাছ সংরক্ষণের জন্য বরফের ব্লককে গুঁড়া করে ব্যবহার করা হয়৷ 

পাঠ১৪ : গরু পালন পদ্ধতি পরিচর্যা 

আমাদের দেশে এখনো সনাতন পদ্ধতিতে গরু পালন হয়। এখান সুনির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না। 

তিন পদ্ধতিতে গরু পালন হয় 

  • গোয়াল ঘরে পালন 
  • বাইরে বেঁধে পালন
  • চারণভূমিতে পালন

গোয়াল ঘরে রেখে পালন : পশুর সংখ্যা ৯ বা তার কম হলে এক সারিতে ও ১০ এর বেশি হলে দুই সারি বিশিষ্ট গোয়ালঘরে গরু পালন করতে হবে। এই পদ্ধতিতে ঘরে গরুর খাদ্য, চাড়ি, দাড়ানোর স্হান, নর্দমা, ও পশু চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।পশুর প্রয়োজনীয় সকল খাদ্য মজুদের দিকে নজর রাখতে হবে।

বাইরে বেঁধে পালন : সাধারণত গোয়াল ঘরে সবুজ ঘাস খাওয়াতে অসুবিধা হলে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়  কিন্তু এক্ষেত্রে পশুকে শক্ত করে বাঁধতে হবে নাহয় অন্যদের ফসলের ক্ষতি হবে। 

চারণভূমিতে পালন : মুলত যেসব দেশে অনেক কৃষিজমি রয়েছে তারা পশুর জন্য উন্নত ঘাস তৈরি করে৷ তারাই চারণভূমি তৈরি করে। 

পশুর পরিচর্যা 

  • প্রতিদিন পশুর গোবর, মুত্র ফেলে দিয়ে বাসস্থান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে 
  • চাড়ি থেকে বাসি খাদ্য ফলে নতুন খাদ্য দিতে হবে 
  • পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি সরবরাহ করতে হবে 
  • পশুর শরীর পরিষ্কার রাখার জন্য নিয়মিত গোসল করাতে হবে
  • পশুকে প্রজনন, গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন যত্ন নিতে হবে 
  • দোহনকালে গাভীকে বিরক্ত করা যাবেনা 
  • বাছুরের বিশেষ যত্ন নিতে হবে এবং বাছুর যাতে পরিমিত দুধ পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে 

পাঠ১৫: গরু পালনের জন্য একটি আদর্শ গোয়াল ঘর

একটি আদর্শ গোয়াল ঘরের স্থানে নিবার্চন

  • গোয়ল ঘর উঁচু স্থানে করতে হবে 
  • পশুর সংখ্যার দিকে খেয়াল রাখতে হবে 
  • বাসস্থান ও গোয়ালঘরে দূরত্ব থাকবে 
  • সহজে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে
  • চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে 
  • পর্যাপ্ত সূর্যালোকের ব্যবস্থা থাকতে হবে 
  • পশুর খাদ্য ও পানির সরবরাহের বিষয়টি মনে রাখতে হবে 
  • বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে গোয়াল ঘর তৈরির সময় বাজার ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয় চিন্তা করতে হবে 

গোয়ালঘরের সুবিধা :

  • পশুর একক ও নিবিড় যত্ন নেওয়া সহজ হয় 
  • পশু থেকে অধিক দুধ ও মাংস পাওয়া যায় 
  • রোদ, বৃষ্টি ও ঝড় থেকে পশুকে রক্ষা করা যায়
  • পোকামাকড় ও বন্য পশুপাখি থেকে রক্ষা করা যায় 
  • দুগ্ধ দোহন সহজ হয় 
  • গোয়াল ঘরে রাখার কারণে পশু শান্ত হয় 
  • রোগ প্রতিরোধ সম্ভব 
  • চিকিৎসাসেবা সহজ হয় 
  • সহজে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা যায় 
  • শ্রমিক কম লাগে খরচ কম আসে 

পাঠ১৬ : গরুর খাদ্য ব্যবস্থাপনা 

গরু মুলত আশ জাতীয় খাবার বেশি খেয়ে থাকে৷ 

এদের খাবার হলো সবুজ ঘাস, খড়, ও দানাদার খাদ্য। এগুলো প্রস্তুতে –

সবুজ ঘাস : সবুজ ঘাসই গরুর প্রধান খাদ্য  কিন্তু চারণভূমি অভার থাকায় ঘাসের অভাব লেগেই থাকে৷ ওজনভেদে গরুকে দৈনিক ৩-৪ কেজি সবুজ ঘাস সরবরাহ করা লাগে৷ 

 খড় : সবুজ ঘাসের পাশাপাশি খড় দিয়েও আমাদের দেশে গরু পালন হয়। 

দানাদার খাদ্য : গবাদিপশুর জন্য বিভিন্ন দানাশস্য ও এদের উপজাতসমুহকে দানাদার খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

খনিজ লবণ :  একটি দুধেল গাভীকে দৈনিক ১০০-১২০ গ্রাম লবণ ও ৫০-৬০ গ্রাম হাড়ের গুঁড়া সরবরাহ করতে হবে 

পানি : একটি উন্নত জাতের গাভি দৈনিক ৪০ লিটার পানি পান করে৷ 

পাঠ১৭ : গরুর বিভিন্ন প্রকার রোগ 

গরুর বিভিন্ন প্রকার রোগ সম্পর্কে নিম্নে দেয়া হলো –

ক) সংক্রমণ রোগ

খ) পরজীবিজনিত রোগ 

গ) অপুষ্টিজনিত রোগ 

ঘ) অন্যান্য সাধারণ রোগ 

 সংক্রামক রোগ : রোগাক্রান্ত পশু হতে সুস্থ পশুতে সংক্রমণ হয় বলে এ ধরনের রোগকে সংক্রামক রোগ বলে। যেমন –

ভাইরাস জনিত রোগ:

  • খুরা রোগ 
  • জলাতঙ্ক 
  • গোবসন্ত

ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রামক রোগ :

  • বাদলা 
  • তড়কা 
  • গলাফোলা
  • ওলানফোলা 
  • বাছুরের নিউমোনিয়া 
  • ডিপথেরিয়া ইত্যাদি 

) পরজীবি জনিত রোগ :

১) বহিঃপরজীবী :

  • উকুন
  • মশা 
  • মাছি
  • আটালি 
  • মাইট ইত্যাদি 

২) দেহাভ্যন্তরের পরজীবি :

  • ফিতা কৃমি 
  • গোল কৃমি 
  • পাতা কৃমি 

) অপুষ্টিজনিত রোগ :

আমিষ,শর্করা, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, পানি ইত্যাদির যে কোনো একটি পুষ্টি উপাদানের অভাবে গবাদিপশুর রোগ হলে অপুষ্টিজনিত রোগ বলা হয়। যেমন –

  • দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া 
  • দৈহিক বৃদ্ধি না হওয়া 
  • ত্বক অমসৃণ হওয়া 
  • দেরিতে দাঁত উঠে 
  • হাড় বেঁকে যাওয়া 
  • দুধ জ্বর ( milk fever ) ইত্যাদি 

) অন্যান্য সাধারণ রোগ

  • পেট ফাঁপা 
  • উদরাময়
  • বদহজম

পাঠ১৮: গরুর রোগ ব্যবস্থাপনা 

পশুর রোগ প্রতিরোধের উপায়সমূহ :

  • গোয়াল ঘর পরিষ্কার ও শুকনো রাখতে হবে 
  • কুকুর, বিড়াল, ও অন্যান্য বন্য পশুপাখি থেকে রক্ষা করতে হবে 
  • পশুকে টিকা দিতে হবে 
  • সুষম খাবার নিশ্চিত করতে হবে 
  • সাধারণ মানুষের খামারে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে 
  • কৃমিনাশক দিতে হবে
  • তাজা ও বিশুদ্ধ খাবার দিতে হবে
  • অতি গরম ও ঠান্ডা হতে রক্ষা করতে হবে 

গবাদিপশুর রোগ হলে করণীয় :

  • রোগের লক্ষণ দেখা দিলে সুস্থ পশু হতে অসুস্থ পশুকে আলাদা করতে হবে 
  • চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে 
  • আলাদা ঘরে পর্যবেক্ষণ করতে হবে 
  • দরকারে অসুস্থ পশুর রক্ত ও মলমূত্র পরীক্ষার জন্য পাঠাতে হবে 
  • রোগাক্রান্ত পশু বাজারজাত না করা 

পাঠ১৯: ডিম সংগ্রহ বাছাই 

ডিম অত্যন্ত ভঙ্গুর ও পচনশীল দ্রব্য। বাড়িতে বা খামারে দুইভাবে ডিম তৈরি হয়। বাচ্চা ফুটানোর  জন্য যে ডিম  উৎপাদন করা হয় তাকে বীজ ডিম বলে ও খাবারের জন্য উৎপাদিত ডিমকে খাবার বলে। 

ডিম সংগ্রহ :

ডিম পাড়ার পর দ্রুত সংগ্রহ, বাছাই ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মুরগির ডিম দিনে দুই বার সংগ্রহ করতে হবে। কিন্তু হাঁসের ডিম একবার কারণ মুরগী দুইবার ডিম পারলেও হাস একবার ডিম পাড়ে৷ 

ডিম বাছাই : সংগ্রহ করা ডিম সাবধানে বাছাই করতে হবে। 

বাছাইয়ের সময় গ্রডিং করা :আমাদের দেশে ডজন বা হালি হিসেবে ডিম বিক্রি হয়। বাজারে ওজন হিসেবে ডিম বিক্রি হয় না। ওজন হিসেবে ডিম বিক্রি ক্রেতাদের জন্য লাভজনক ।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *