অধ্যায়ঃ ৬ – জীবে পরিবহন

SSC / জীববিজ্ঞান

অধ্যায়ঃ ৬ – জীবে পরিবহন

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদিঃ উদ্ভিদে পানি শোষণ, রক্ত, হ্রদপিন্ড, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল

উদ্ভিদে পানি শোষণঃ

উদ্ভিদে শোষণকাজ ৩টি প্রক্রিয়া দ্বারা সম্মিলিত হয়।

১. ইমবাইবিশন

২. ব্যাপন

৩. অভিস্রবণ

এছাড়াও খনিজ লবণ শোষণ ২ ভাবে হয়ে থাকে।

১. নিষ্ক্রিয় শোষণ

২. সক্রিয় শোষণ

প্রস্বেদনঃ সাধারণত স্থলজ উদ্ভিদ যে শারীরতত্ত্বীয় প্রক্রিয়ায় তার বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি বের করে দেয়,সেটিই প্রস্বেদন।এ কাজটি বায়বীয় অঙ্গের কোন অংশের মাধ্যমে ঘটে তার ভিত্তিতে এদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন

২. কিউটিকুলার প্রস্বেদন

৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন

প্রস্বেদনের ক্ষেত্রে কিছু বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ প্রভাবক রয়েছে। যেমনঃ

বাহ্যিক প্রভাবকঃ

১. তাপমাত্রা

২. আপেক্ষিক আর্দ্রতা

৩. আলো

৪. বায়ুপ্রবাহ

অভ্যন্তরীণ প্রভাবকঃ

১. পত্ররন্ধ্র

২. পত্রের সংখ্যা

৩. পত্রফলকের আয়তন

৪. উদ্ভিদের বায়ব অঙ্গের আয়তন

মানবদেহে রক্ত সংবহনঃ

রক্ত একটি অস্বচ্ছ,মৃদু ক্ষারীয়,লবণাক্ত তরল পদার্থ।এর দুটি উপাদান।

১. রক্তরস

২. রক্তকণিকা

রক্তকণিকা আবার ৩ ধরনের।

১. লোহিত রক্তকণিকা

২. শ্বেত রক্তকণিকা

৩. অনুচক্রিকা

শ্বেতরক্তকণিকা আবার দুই ধরনের। যথাঃ

১. অ্যাগ্রানুলোসাইট

২. গ্রানুলোসাইট

রক্ত দেহের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।এটি দেহে নানাবিধ কাজ করে থাকে। যেমনঃ

১. অক্সিজেন পরিবহন

২. কার্বন-ডাই-অক্সাইড অপসারণ

৩. খাদ্যসার পরিবহন

৪. তাপের সমতা রক্ষা

৫. বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন

৬. হরমোন পরিবহন

৭. রোগ প্রতিরোধ 

৮. রক্ত জমাট বাঁধা

হৃদপিন্ডঃ

এটি বক্ষ গহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ,পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দিয়ে আবৃত।এর তিনটি স্তর।

১. এপিকার্ডিয়াম বা বহিঃস্তর

২. মায়োকার্ডিয়াম বা মধ্যস্তর

৩. এন্ডোকার্ডিয়াম বা অন্তঃস্তর

হৃদপিন্ডের কাজঃ

১. সংবহনতন্ত্রের রক্তপ্রবাহ সচল থাকে।

২. প্রকোষ্ঠগুলো সম্পূর্ণ বিভক্ত থাকায় অক্সিজেনযুক্ত ও অক্সিজেনবিহীন রক্তের সংমিশ্রণ ঘটে না

রক্তচাপঃ

রক্তপ্রবাহের সময় ধমনির গায়ে যে চাপ সৃষ্টি হয়,তাকে রক্তচাপ বলে।আদর্শ রক্তচাপ ১২০/৮০ মিলিমিটার মানের কাছাকাছি।

উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক হিসেবে গণ্য করা হয়।একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত সিস্টোলিক চাপ ১২০ মিলিমিটার পারদের নিচে এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মিলিমিটার পারদের নিচের মাত্রাকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রা হিসেবে ধরা হয়।

লক্ষণঃ

১. মাথাব্যথা

২. রোগীর মাথা ঘোরা

৩. ঘাড় ব্যথা করা

৪. বুক ধড়ফড় করা

৫. দুর্বল বোধ

কোলেস্টেরলঃ

এটি হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ,লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে বাহিত হয়।রক্তে তিন ধরনের লিপোপ্রোটিন হলোঃ

১. LDL-LOW DENSITY LIPOPROTEIN

২. HIGH-DENSITY LIPOPROTEIN

৩. TRYGLYCERIDE

এছাড়াও রক্তসংবহনতন্ত্রের বেশ কিছু রোগ রয়েছে,,

১. হার্ট এ্যাটাক

২. বাতজ্বর

মাদক সেবন থেকে নিজেকে দূরে রাখলে,মেদসৃষ্টিকারী খাবার না খেলে,নিয়মিত ঘুম,ব্যায়াম ঠিক রাখলে এসব রোগ থেকে নিজেকে দূরে রাখা সম্ভব।

লিখেছেনঃ সোহানা ফেরদৌস
ফার্মেসী বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *