অধ্যায়ঃ ৬ – বনায়ন

JSC / কৃষি শিক্ষা

অধ্যায়ঃ ৬ – বনায়ন

কৃষির সাথে বনায়ন জড়িয়ে আছে সেই প্রাচীন কাল থেকে। কৃষি বনায়ন হলো কৃষিজ ও বনজ বৃক্ষের সম্মিলিত চাষাবাদ পদ্ধতি, যাতে একজন কৃষক ভূমির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অধিকতর উৎপাদন ও মুনাফা অর্জন করতে পারে। এ বনায়ন পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব। 

বর্তমানে সারাদেশে পরিকল্পিত উপায়ে বনজ সম্পদ বৃদ্ধি খুবই জরুরি৷ 

এ অধ্যায় শেষে আমরা –

  • কৃষিক্ষেত্রে নার্সারি তৈরির কৌশল ব্যাখ্যা করতে পারব 
  • পলিব্যাগে চারা তৈরি করতে পারব। 
  • কৃষি বনায়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব। 
  • কৃষি বনায়নের সমস্যাসমূহ সমাধানের উপায় ব্যাখ্যা করতে পারব 
  • সামাজিক ও কৃষি বনায়ন নকশা বর্ণনা করতে পারব
  • সামাজিক ও কৃষি বনায়নের নকশা প্রস্তুত করতে পারব
  • মিশ্র বৃক্ষ রোপনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • সড়ক ও বাঁধের ধারে বৃক্ষরোপণ পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব

পাঠ -১ : নার্সারি এবং কৃষিক্ষেত্রে  নার্সারি 

নার্সারি বলতে আমরা বুঝি চারা উৎপাদন কেন্দ্র যেখানে চারা উৎপাদন করে রোপণের  পূর্ব পর্যন্ত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। 

নার্সারির প্রকারভেদ 

১) স্থায়িত্বের উপর ভিত্তি করে নার্সারি ২ ধরনের, যথা – 

  • স্থায়ী নার্সারি 
  • অস্থায়ী নার্সারি 

স্থায়ী নার্সারি : এই নার্সারিতে বছরের পর বছর চারা উৎপাদন হয়।  যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হয়।

এখান থেকে উন্নত মানের চারা সরবরাহ হয়।

অস্থায়ী নার্সারি : এই ধরনের নার্সারিতে সড়ক ও জনপদ বিভাগ নতুন রাস্তা নির্মাণের পর রাস্তার দুইপাশে গাছ লাগায়। এজন্য অস্থায়ী নার্সারি স্থাপন হয়। এতে চারা পরিবহনে খরচ কম হয়। 

মাধ্যমের ভিত্তিতে নার্সারিকে ২ ভাগে ভাগ করা যায় –

  • পলিব্যাগ নার্সারি : চারা পলিব্যাগে তৈরী ও পরিচর্যা হয়। 
  • বেড নার্সারি : সরাসরি মাটিতে বেড বানিয়ে  চারা উৎপাদন করা হয়। এছাড়াও রয়েছে গার্হস্থ নার্সারি, প্রজাতিভিত্তিক নার্সারি ও ব্যবহারভিত্তিক নার্সারি। 

কৃষিক্ষেত্রে নার্সারির প্রয়োজনীয়তা 

  • রোপনের জন্য সব সময় নার্সারিতে সুস্থ, সবল ও সব বয়সের চারা পাওয়া যায় 
  • নার্সারিতে সহজে চারার যত্ন নেওয়া যায় 
  • গরৃজন, শাল, তেলসুর প্রভৃতি গাছের বীজ গাছ থেকে ঝরার ২৪ ঘন্টার মধ্যে রোপন করতে হয়। এসব উদ্ভিদের চারা তৈরির জন্য নার্সারিই উত্তম। 
  • কাঁঠাল, চম্পা প্রভৃতি গাছের বীজ ঠিক সময়ে বপন না করলে অঙ্কুরোদ্গমের হার কমে যায়। তাই এদের জন্য নার্সারিই উত্তম জায়গা। 
  • অল্প পরিশ্রমে কম খরচে চারা উৎপাদন সম্ভব 
  • চারা বিতরণ ও বিপণন করতে সহজ হয় 

পাঠ -২ : নার্সারি তৈরির কৌশল 

নার্সারি তৈরির জন্য প্রথমেই দরকার সুষ্ঠু পরিকল্পনার।  এ পরিকল্পনা নির্দিষ্ট কিছু নীতি ও বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে বানাতে হবে। স্থায়ী নার্সারি স্থাপনকালে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোকে বিবেচনা করতে হবে 

  • স্থান নির্বাচন 
  • নার্সারির জায়গার পরিমাণ নির্ণয় 
  • বেড়া নির্মাণ 
  • ভূমি উন্নয়ন 
  • অফিস ও বাসস্থান 
  • বিদ্যুতায়ন 
  • রাস্তা ও পথ 
  • সেচ ব্যবস্থা 
  • নর্দমা ও প্বার্শনালা
  • নার্সারি ব্লক
  • নার্সারি বেড
  • পরিদর্শন পথ 

নার্সারির স্থান নির্বাচন : নির্বাচিত জমি উর্বর ও দোআঁশ মাটি সম্পন্ন  হতে হবে। অপেক্ষাকৃত উঁচু, সমতল ও আলো-বাতাস সম্পূর্ণ হতে হবে। পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থা লাগবে। মালামাল ও চারা পরিবহনে উন্নত ব্যবস্থা থাকবে।

নার্সারি ব্লক, বেড ও পরিদর্শন পথ 

যেখানে চারা উৎপাদন জরা হচ্ছে নার্সারির সেই অংশকে ব্লক বলে। প্রতি ব্লকে ১০-১২টি লম্বালম্বি বেড রাখতে হবে৷ দুই বেডের মাঝে দূরত্ব থাকবে ২৫ সে.মি.। বিভিন্ন ব্লকের মধ্যে সুবিধামতো পরিদর্শন পথ ও প্বার্শপরিদর্শন পথ ১-২ মি. প্রস্থ রাখতে হবে। প্রধান পরিদর্শন পথ হবে ২-৩ মি.। প্রধান পরিদর্শন পথ দিয়ে সহজেই গাড় চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। 

পাঠ: পলিব্যাগে চারা তৈরি করা 

হাতে কলমে পলিব্যাগে বীজ বপন চারা তৈরির জন্য শ্রেণি সংগঠন নির্দেশাবলি 

  • সুবিধামতো দলে ভাগ হয়ে দলনেতা নির্বাচন
  • প্রত্যেক দলের দলনেতা পলিব্যাগে চারা তৈরি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ বুঝে নিবে
  • কাজের ধাপ অনুসরণ করে পলিব্যাগ তৈরি
  • পলিব্যাগে বীজ বপন
  • পলিব্যাগে চারা তৈরি সংক্রান্ত দলীয় প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ শিক্ষকের কাছে জেনে নেয়া
  •  পাঠের এই অংশ শেষ করা 

বিষয় : পলিব্যাগে বীজ বপন চারা তৈরি 

উপকরণ : বীজ, দোআঁশ মাটি, গোবর, কম্পোস্ট ,১৫সে.মি.×১০সে.মি. আকারের পলিব্যাগ, পানি দেওয়ার ঝাঁঝর

কাজের ধাপ : 

  • মাটি ভেঙে গুড়া করা 
  • ৪ ভাগের ৩ ভাগ মাটি ও একভাগ গোবর বা কম্পোস্ট সার ভালো ভাবে মিশিয়ে নেওয়া 
  • পলিব্যাগের তলাসহ দুই সারিতে ৮টি ছিদ্র করা
  • পলিব্যাগে ভালো করে মাটি ভর্তি করা 
  • ছায়াযুক্ত সমতল জায়গায় সারিবদ্ধভাবে পলিব্যাগগুলো সাজানো 
  • মাটিভর্তি পলিব্যাগের উপরে আঙ্গুল দিয়ে দুটো গর্ত করা  প্রতি গর্তে একটি বীজ দেয়া।
  • গুড়ামাটি দিয়ে বূজ ভালোভাবে ঢেকে দেয়া ঝাঁঝর দিয়ে পানি দেয়া 
  • বীজ বপনের তারিখ খাতায় লেখা 
  •  প্রতিদিন পানি দেয়া
  • অঙ্কুরোদ্গম এর তারিখ খাতায় লেখা 
  • চারার উচ্চতা ১৫ সে.মি হওয়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা 
  • পরীক্ষার সব খাতায় লিখে রেখে দলীয়ভাবে শিক্ষক কে জমা দেয়া 

পাঠ ৪: কৃষি বনায়ন গুরুত্ব 

কৃষি বনায়ন হলো এক ধরনের ভূমি উৎপাদন পদ্ধতি। এখানে সুপরিকল্পিতভাবে বনায়ন করা হয়। অর্থনৈতিকভাবে এ বনায়ন লাভজনক। এ বনায়নের ফলে ভূমির বহুমুখী ব্যবহার করা যায়। আমাদের অন্যতম জাতীয় সমস্যা হলো জনসংখ্যা। সীমিত ভূমি এই বিশালা জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে সক্ষম নয়। তাই বৃক্ষায়ন কেবল বনভূমিতে সীমাবদ্ধ রাখলে হবেনা । কৃষি বনায়নকে আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে গ্রহণ এখন সময়ের দাবি৷

কৃষি বনায়ন আমাদের জীবনের বহুমুখী সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

কৃষি বনায়নের গুরুত্ব 

  • খাদ্য চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে 
  • গৃহনির্মাণ ও আসবাব সামগ্রী তৈরিতে সাহায্য করে 
  • জ্বালানি সমস্যা মেটায় 
  • একই জমিতে বিভিন্ন রকম ফসল ও বৃক্ষ রোপন করা যায় 
  • অর্থ আয়ের ব্যবস্থা হয়, কর্মসংস্থান বাড়ে, দারিদ্র্য বিমোচন হয় 
  • স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার হয়
  • মাটিক্ষয় রোধ হয় ও মাটির উর্বরতা বাড়ে 
  •  পরিবেশ জীবের বসবাস উপযোগী হয় 
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় 
  • পশু পাখির খাদ্য ও আবাসস্থল সৃষ্টি হয়
  • বৃষ্টিপাত বেশি হয় 
  • মরুকরণ, বন্যা ও ভূমিধস থেকে রক্ষা পাওয়া যায় 

সর্বোপরি, কৃষি বনায়ন গ্রামীন উৎপাদন ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অভাবনীয় পরিবর্তন ের সূচনা করতে পারে। 

পাঠ – ৫: কৃষি বনায়নের সমস্যা ও সমাধান 

  • একই জমিতে বহুবর্ষজীবী কাষ্ঠল উদ্ভিদের সাথে পশু পাখির সাথে সমন্বিত চাষ হয় 
  • লতা জাতীয় ফসলকে একসাথে মিশ্র চাষ সম্ভব 
  • কৃষি বা বনভিত্তিক একক ভূমি ব্যবহারের চেয়ে অধিকতর উৎপাদন ও উপকারিতা পাওয়া যায় 

কৃষি বনায়নের সমস্যা  

  • কৃষি বনায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমির সংখ্যা কমছে
  • রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা কমছে
  • পোকামাকড় ও ক্ষতিকর জীবজন্তুর ফলে উৎপাদন কমছে 
  • কৃষিবন রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা 
  • শুকনো মৌসুমে পানি সেচের অভাব
  • উৎপাদিত দ্রব্য সংরক্ষণের অভাব
  • যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকা 
  • কৃষিবন সম্পর্কে কৃষকের ধারণা ও অভিজ্ঞতা কম থাকা 
  • কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা না থাকা 
  • এলাকাভিত্তিক কৃষি পণ্য সংরক্ষণের অভাব 

কৃষি বনায়নের সমস্যাসমূহপর সমাধান 

আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বৃদ্ধি জন্য যেসব সামাজিক বনায়ন করা হয় সেসব কৃষি বনায়নের আওতায় আনা লাগবে। শস্য পর্যায়ে অনুসরণ করে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে। জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে। পোকামাকড় ও ক্ষতিকর জীবজন্তুর হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। কৃষি বনায়ন এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সাথে কৃষক যেন প্রাপ্য মূল্য পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা সহ কৃষিবন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে৷ তাছাড়া কৃষি পণ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণের জন্য যথেষ্টসংখ্যক হিমাগার ব্যবস্থা ও সরকারি এবং বেসরকারি ভাবে জরা প্রয়োজন। 

পাঠ -৬ : সামাজিক বনায়নের নকশা বর্ণনা 

সামাজিক বন : বসতবাড়ি, প্রতিষ্ঠান, বাঁধ ও সড়ক, উপকূলীয় অঞ্চল, পাহাড়ি পতিত জমিতে সামাজিক বন সৃষ্টি হয়। 

সড়ক ও বাঁধে সামাজিক বনায়ন : আমাদের দেশে সাধারণত সড়ক ও বাঁধে গাছ রোপনের ক্ষেত্রে একসারি ও দ্বি সারি পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। সড়ক ও বাঁধের ঢাল অনুযায়ী সারির সংখ্যা কমবেশি হয় 

একসারি পদ্ধতি : রাস্তা সরু হলে এ পদ্ধতি অবলম্বন করে গাছ লাগানো হয়। 

দ্বি সারি পদ্ধতি :   রাস্তা বা বাঁধের ধার বড় হলে এ পদ্ধতিতে গাছ লাগানো হয়। 

সড়কের ধারে বৃক্ষরোপণ 

বৃক্ষরোপণ কৌশল : এ পদ্ধতিতে গাছ লাগানোর স্থান অপর্যাপ্ত  তাই সরু করে গাছ লাগানো হয়। 

গাছ নির্বাচনে বিবেচ্য কৌশলসমূহ : এক্ষেত্রে যেসব গাছের পাতা ছোটো ও সরু সেসব গাছ নির্বাচন করতে হবে।রাস্তার ধারে হলে বহুস্তরী বনায়ন করতে হবে। 

এবং গাছ নির্বাচনে মাঝারি, ছোট, বিরুৎ বা গুল্ম মিশ্র ভাবে বাছাই করতে হবে। 

গাছ লাগানোর কৌশল 

  • যানবাহন চলাচল ও জনগণের হাটার জন্য পাশে যে খালি জায়গা থাকে তাতে এক সারি গাছ লাগানো সম্ভব। যদি দুই সারি লাগাতে হয় তাহলে ১.৫-২. ৫ মিটার দূরে লাগানো যেতে পারে৷ 
  • বাঁধের ধারে ঢালু অংশে সারিবদ্ধভাবে গাছ লাগাবে৷ 
  • সড়কের নিচের অংশে এক সারি গাছ লাগানো যেতে পারে 
  • বাঁধের ধারে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে একটি চারা ও আর একটি চারার দূরত্ব হবে ২মি.×১ মি.।  এতে মাটিক্ষয় রোধ হবে ও বাঁধ নষ্ট হবেনা।

গাছ নির্বাচন : 

  • বাধের দুইপাশে দ্বিবীজপত্রী উচু ও বেশি  শাখাপ্রশাখা সম্পন্ন গাছ লাগানো উচিত নয় 
  • বেশি এলাকাজুড়ে মূল বা শিকড় থাকে এমন গাছ নির্বাচন উত্তম 
  • বাঁধের পাশে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে যেসব গাছের পাতা গো খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয় সেগুলো নির্বাচন করা উচিত

পাঠ -৭: সড়ক ও বাঁধের ধারে বৃক্ষরোপণ পদ্ধতি বর্ণনা 

সারিবদ্ধ বনায়ন 

এক্ষেত্রে তিন ধরনের মডেল অনুযায়ী সারিবদ্ধ বনায়ন প্রচলিত আছে। 

মডেল -১ বড় সড়ক, রেল ও বাঁধ বনায়ন   

মডেল -২ সংযোগ সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তা বনায়ন 

মডেল -৩ মহাসড়ক ও উঁচু রেলপথ বনায়ন 

মডেল -১ এর বর্ণনা

  • সড়ক বা বাঁধের কিনারা থেকে ৩০ সে.মি. নিচে অড়হরের সারি থাকবে
  • সেই সারির থেকে ৩০ সে.মি. নিচে গাছের প্রথম সারি যাতে ২ মিটার ব্যবধানে বৃক্ষরোপণ হবে
  • প্রথম সারি হতে ১.৫-২.৫মিটার দূরে গাছের দ্বিতীয় সারি হবে যাতে ২ মিটার ব্যবধানে গাছ লাগাতে হয় 
  • সড়ক বা বাঁধের ঢালের একেবারে নিচে থাকবে ধইঞ্চার সারি 
  • এ মডেলে ১ কিলোমিটারপ সর্বোচ্চ ১৬০০ চারা লাগানো যেতে পারে 

প্রজাতি নির্বাচন 

এক্ষেত্রে ১ম সারিতে শোভাবর্ধনকারী, ছায়া,  কাঠ,  উৎপাদনকারী গাছ লাগানো হবে।  যেমন – মেহগনি, রেইনট্রি, শিশু, সেগুন, আম, কাঠাল, খেজুর,  তাল ইত্যাদি। দ্বিতীয় সারিতে জ্বালানি ও খুটি প্রদানকারী গাছ যেমন – আকাশমনি, অর্জুন, বাবলা,  শিশু, ইপিল ইপিল, রেইনট্রি ইত্যাদি। 

পাঠ-৮ : সড়ক / বাঁধের ধার অথবা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ 

স্থান নির্বাচন : 

সড়ক ও  বাঁধের ধার অথবা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের সুবিধাজনক জায়গা 

প্রয়োজনীয় উপকরণ 

১) কোদাল, খুন্তি, শাবল,ছুরি, গোবর, রাসায়নিক সার 

২) ব্যাবহারিক খাতা, পেন্সিল, কলম, রাবার,  সার্পনার 

কাজের ধারা

  • যে গাছ রোপন করবে তার সতেজ চারা সংগ্রহ 
  • সঠিক নিয়মে প্রয়োজনীয় মাপের গর্ত করা
  • গর্তের মাটিতে গোবর ও রাসায়নিক সার দিয়ে ১৫ দিন রোদে শুকানো 
  • মাটি আবার গর্তে ভরাট করে রাখা 
  • চারার শিকড়ের সমপরিমান গর্ত করা 
  • ছুরি দিয়প চারাসহ পলিব্যাগের পলিথিন কাটা 
  • মাটিসহ চারা গাছ গর্তে দিয়ে চারপাশে মাটি দেয়া 
  • এবার পানি দেয়া  
  • প্রক্রিয়াটি খাতায় লেখে শিক্ষককে দেখানো 

সড়ক ও বাঁধের ধারে বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা 

  • মাটিক্ষয় রোধ করে 
  • পশুখাদ্য তৈরি করা 
  • সড়ক ও বাঁধ সংলগ্ন এলাকা সবুজায়ন 
  • জাতীয় উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি 
  • কর্মসংস্থানপর সৃষ্টি 
  • পরিবেশে পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের আবাস সৃষ্টি 
  • এলাকার পরিবেশ ঠান্ডা ও বৃষ্টিপাতের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা 
  • পরিবেশ সংরক্ষণ 

পাঠ -৯: কৃষি বনায়নের নকশা প্রস্তুত ও বর্ণনা 

একটিই জায়গায় সুবিবেচিত বৃক্ষ, ফসল ও পশুখাদ্য উৎপাদন পদ্ধতিই হলো কৃষি বনায়ন। এটি পরিবেশবান্ধব ও এতে উৎপাদনে ক্ষতি সাধিত হয় না তাই অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। 

সাধারণত সামাজিক কোনো নির্দিষ্ট এলাকার উপযুক্ত কৃষি বনায়ন মডেল বা নকশা তৈরির ক্ষেত্রে যপসব জিনিস বিবেচনা করতে হবে –

  • ভূমির অবস্থান 
  • সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থা 
  • মাটির বৈশিষ্ট্য 
  • কৃষকের চাহিদা 

সম্ভাবনাময় কয়েকটি কৃষি বনায়ন মডেল বা নকশার বর্ণনা 

) কৃষিভূমিতে ফসল বৃক্ষ চাষ : এ ধরনের নকশা একই জমিতে কৃষি ফসলের সাথে যৌথভাবে বৃক্ষের চাষ হয় 

ক) তুলনামূলক নিচু জমিতে নির্ধারিত দূরত্বে সারি করে গাছ লাগানো হয়।  গাছের সারির মধ্যে বিভিন্ন কৃষি ফসলের চাষ হয়  

খ) কৃষি ফসলের প্রান্তসীমায় আইলের কাছে চারপাশে সারি করে গাছ লাগানো। 

গ) এ ধরনের মেডেলে কৃষকগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কৃষিজমিতে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ বিক্ষিপ্তভাবে চাষ করে থাকেন। 

) অ্যালি ক্রপিং 

অ্যালি ক্রপিং কৃষি বনায়নে অন্যতম সফল পদ্ধতি। সাধারণত লিগিউম জাতীয় গুল্ম বা বৃক্ষ নির্দিষ্ট দূরত্বে ঘন সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়।সাথে দুই সারির মাঝে ফসলের চাষ করা হয়। 

) ফসল, বৃক্ষ পশুপালন 

এ পদ্ধতিতে ফলদ বা বনজ একবর্ষজীবী বা বহুবর্ষজীবী কৃষি ফসল ও পশুপালন করা হয়৷ 

) মৎস, বৃক্ষ ফসল 

এ পদ্ধতি অবলম্বন করে মাছ চাষের পাশাপাশি লতাজাতীয় শাকসবজির চাষ হয় 

) বসতবাড়িতে কৃষি বনায়ন 

এ পদ্ধতিতে শাকসবজি, খাদ্য, ফসল,  হাঁস,  মুরগী এবং বিভিন্ন ধরনের বনজ ফলদ ও শোভাবর্ধনকারী গাছপালা একসাথে উৎপাদিত হয়  

পাঠ-১০ : মিশ্র বৃক্ষরোপনের প্রয়োজনীয়তা 

মিশ্র বৃক্ষ চাষ 

বনায়ন ব্যবস্থায় অন্যতম হলো মিশ্র বৃক্ষ চাষ। এ পদ্ধতি অবলম্বনে বিভিন্ন রকম বৃক্ষের সম্মিলিত চাষাবাদ হয়ে থাকে। অনেকসময় মিশ্র উদ্ভিদের সাথে পশুপাখি ও মৎস্য চাষও হয়ে থাকে। বাড়ির চারদিকে, বিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি, নদী, খাল ও পুকুর পাড় প্রভৃতি স্থানে মিশ্র বৃক্ষ চাষ করা সম্ভব। 

এলাকা নির্বাচন 

মাঝারি নিচু নিচু এলাকা : যেসব বৃক্ষ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে সেসব গাছ নিচু এলাকায় লাগানো উচিত। যেমন – হিজল, রয়না, কীছ ইত্যাদি। 

মাঝারি  উঁচু উঁচু এলাকা : এসব এলাকায় এমন গাছ লাগাতে হবে যা সবখানেই লাগানো যায়। যেমন – আম,কাঁঠাল, তাল,খেজুর, মেহগনি, শাল, সেগুন, বেল কদবেল ইত্যাদি। 

মিশ্র বৃক্ষ চাষের প্রয়োজনীয়তা 

  • এলাকাভিত্তিক বৃক্ষরোপণের প্রজাতি নির্বাচন করা যায়। 
  • এলাকায় বসবাসকারী জনগণের চাহিদা মেটানো যায়। 
  • জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়
  • পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের আবাস সৃষ্টি হয় 
  • গ্রামীণ জনসাধারণের কাজের ক্ষেত্র বাড়ে, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে।
  • পরিবেশ ঠান্ডা রাখে, বৃষ্টিপাত হয়। 
  • ভূমিক্ষয় ও ঝড়ের কবল থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *