Admission Candidate

Motivation

Admission Candidate

রাতে ঘুমায় না ছেলেটি, মেয়েটিও তাকিয়ে আছে ঘড়ির দিকে। কখন ভোর হবে? পরদিন যে তাদের এইচএসসি রেজাল্ট দিবে। 

অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষ। সকাল হলো। বহুল প্রতীক্ষিত রেজাল্ট আসলো। ছেলেটির পরিচিত প্রায় সবাই ই  এ+ পেলো না কিন্তু একটি ছেলে এ+ পায় নি। সেটি সে নিজেই!

ক্লাস টপার হওয়া স্বত্বেও কেন জানি মেয়েটা কোন এক সাবজেক্টে এ প্লাস মিস করে ফেললো ! যেখানে তার বান্ধুবীরা সবাই ই এ+ পেয়েছে। 

বান্ধুবীরা যখন আনন্দে সেল্ফি তোলায়, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে ব্যস্ত, মেয়েটা চুপচাপ মায়ের হাত ধরে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় চলে আসলো। 

অনেক “V” দেখানো হাতের মাঝে ঐ ছেলেটার হাত নেই। 

পৃথিবীর কেউ যদি ঐ ছেলে বা মেয়েটাকে বলে, “আমি তোমার মানসিক অবস্থাটা বুঝতেছি।” সে একটা বিশাল রকমের মিথ্যুক। সবাই শুধু সফলতার ভাগীদার হতে চায়, ব্যর্থতার ভাগীদার কেউ হয়ে চায় না। এটাই পৃথিবীর চিরাচরিত নিয়ম!

ফেসবুকে এসেও যেন শান্তি নেই। এক একটা অভিনন্দনের পোস্ট এবং কমেন্টও যেন কলিজায় তীরের মতো বিঁধছে।  

ছেলেটার দুনিয়াটা ছোট হয়ে আসে, মেয়েটার মা-বাবা কাঁদতে থাকে। পৃথিবীটা অনেক বেশি অসহনীয় লাগে তখন, জীবনটা অর্থহীন মনে হয়। আসলেই তো! ২ বছর লেখাপড়া করার পর ক্লাসের সবাইকে যখন আনন্দের চিৎকার করতে দেখবা, তখন ইচ্ছা করবে খুব জোরে চিৎকার করে কান্না করি। 

তোমার বেস্ট ফ্রেন্ডরা যখন হাতের আঙ্গুল দিয়ে “V” দেখাবে, তখন ঐ হাত দিয়ে মুখ চেপে কাঁদতে কি পরিমাণ কষ্ট হবে, সেটা দুনিয়ার কেউ বুঝবে না তুমি ছাড়া, কেউ না !

“আপনার মেয়ে এ প্লাস পায় নাই ?? বলেন কি ভাবী!! পাশের বাড়ির অমুকের মেয়েও তো পাইছে !”

“আয়হায় !! আপনার ছেলের রেজাল্ট খারাপ হইছে ?? কোন ভালো ভার্সিটি নিবে ওরে?? ইশ !! ওর ভবিষ্যৎ তো শেষ! “

এইরকম হাজার হাজার কথা ছেলেটার আর মেয়েটার বাবা-মা কে বুলেটের মত ঝাঝরা করে দিবে প্রতিনিয়ত কিন্তু তারাও তো মানুষ!

বাবা নিশ্চুপে অফিস থেকে বেরিয়ে যায়। তার কলিগের মেয়ে যে এ+ পেয়েছে কিন্তু তার ছেলে যে এ+ পায়নি। মা আর পাশের বাসায় যায় না। পাশের বাসার ভাবীর ছেলেও যে এ+ পেয়েছে কিন্তু তার মেয়ে যে পায়নি সোনার হরিণ এ+।

বাসায় এসে ছেলেটা আর মেয়েটাকে যা নয় তাই বলবে, বকবে, কাঁদবে !

রাত বাড়বে …খুব সাবধানে ওড়নাটা গলায় পেচিয়ে ফাঁস দেয়ার প্রস্তুতি নেয় মেয়েটা, ঘুমের ওষুধটা হাতে তুলে নেয় ছেলেটা !!

যেই টাকা বাবা গুছিয়ে রেখেছিলো মিষ্টি কেনার জন্য, সেই টাকা দিয়ে পরদিন সন্তানের কাফনের কাপড় কেনার জন্য খরচ করতে হলো !

দুইটা জীবন শেষ!! গল্পও শেষ !!

… … … … 

আচ্ছা! এইবার গল্পটার একটু পিছনের দিকে ফিরে যাই …

ছেলেটার দুনিয়াটা ছোট হয়ে আসে, মেয়েটার মা-বাবা কাঁদতে থাকে। পৃথিবীটা অনেক বেশি অসহনীয় লাগে, তখন জীবনটা অর্থহীন মনে হয়। আসলেই তো!  ২ বছর লেখাপড়া করার পর ক্লাসের সবাইকে যখন আনন্দের চিৎকার করতে দেখবা, চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা হবে না ??

তোমার বেস্ট ফ্রেন্ডরা যখন হাতের আঙ্গুল দিয়ে “V” দেখাবে, তখন ঐ হাত দিয়ে মুখ চেপে কাঁদতে কি পরিমাণ কষ্ট হবে, সেটা দুনিয়ার কেউ বুঝবে না  তুমি ছাড়া,কেউ না !

বাবা-মা বাসায় এসে ছেলেটা আর মেয়েটাকে যা নয় তাই বলবে, বকবে, কাঁদবে !

রাত বাড়বে … প্রচন্ড জিদে মেয়েটা প্রতিজ্ঞা নেয় সে ভালো ভার্সিটিতে চান্স পেয়ে সবার কটুক্তির উচিত জবাব দিবে। ছেলেটাও শপথ নেয় সে তার মা – বাবার বিষন্ন মুখটাকে হাসি মুখ করে ছাড়বে এবং ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয় 

“DEAR PARENTS !! ONE DAY I’LL MAKE YOU PROUD … PROMISE !!”

পরদিন থেকে প্রচন্ড জিদ নিয়ে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে সারাদিন পড়তে থাকে। তাদের এত পড়া দেখে ফ্রেন্ড সার্কেলের অনেকেই তাদের “আতেল” বলা শুরু করে কিন্তু তারা কিছু না বলে উত্তরে শুধু একটি মুচকি হাসি দেয়। 

প্রায় ৩ মাস প্রচুর পরিশ্রম করে ছেলেটি। মেয়েটেও বা কম কিসে! অবশেষে তারা এডমিশন টেস্ট দেয়।  অ্যাডমিশন টেস্টের রেজাল্ট বের হয়।

৩ মাস আগে বাবা যেই টাকা গুছিয়ে রেখেছিলেন মিষ্টি কেনার জন্য, আজ সেই টাকায় ২০ কেজি মিষ্টি কেনা হয়।!

আজও মেয়েটা কাঁদছে … আনন্দে !!

আজও ছেলেটা চিৎকার করছে … আনন্দে !!

“আপনার মেয়েটা অমুক জায়গায় চান্স পেয়েছে ?? কংগ্রেটজ ভাই !!”

“আপনার ছেলেটা অমুক ভার্সিটিতে টিকছে ?? মাশআল্লাহ !!”

ফোন, ফেসবুক টাইমলাইন, কমেট বক্সে অভিনন্দন এর ছড়াছড়ি! 

অথচ ঠিক ৩ মাস আগে এই ফেসবুকে অভিনন্দন দেখে যতটা কষ্ট হচ্ছিলো, তার থেকে অনেক বেশি সুখ অনুভব হচ্ছে আজ! 

চারপাশের মানুষের প্রশংসা শুনে বাবা-মা এর মুখে ১০০ ওয়াট বাল্বের মত গর্বিত হাসি ফোটে … আজ পৃথিবীটা অনেক বেশি সুন্দর !!

গল্পটা শেষ … হ্যাপি এন্ডিং !!

… … …

প্রথম গল্পটা গল্প হিসেবেই থাক …

দ্বিতীয় গল্পটা সত্যি হিসেবে দেখতে চাই !!

জীবনটা সস্তা না!  ৩ ঘন্টার কয়েকটা পরীক্ষার জন্য তুমি জন্মাও নাই, তাইলে ৩ ঘন্টার কয়েকটা পরীক্ষার জন্য মরবা কেন ??

সবার মুখেই হাসি ফুটবে।  কারো মুখে একটু আগে ফুটবে, কারো মুখে একটু পরে। এই যা আর কি! তোমার কিচ্ছু করতে হবে না,  শুধু একটু অপেক্ষা করো,  দাঁতে দাঁত চেপে একটু অপেক্ষা করো।  একটুখানি অপেক্ষা…. !!” 🙂

সবার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইলো। সবার জীবনে যেন ২য় গল্পটি প্রতিফলিত হয়


মুশফিকুর রহমান আশিক

Leave your thought here

Your email address will not be published. Required fields are marked *